বাংলাদেশের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন (Disaster Management Act 2012), দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশ 2019 এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা 2021–2025-এর ওপর ভিত্তি করে গড়া। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এই কাঠামো সমন্বয় করে। জেলা পর্যায়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কাজ করে। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (Upazila Nirbahi Officer) নেতৃত্বে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকে; ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি স্থানীয় কাজ সামলায়। কিছু অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন অন্যদের তুলনায় ভালো হতে পারে। দেশের বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মৌসুমি বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় বন্যার পাশাপাশি নদীভাঙন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, সংক্ষেপে BMD, ভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, ভূমিকম্প ও সুনামির সতর্কতাও দেয়। আকস্মিক বন্যায় পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদী এলাকা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূল, দ্বীপ ও নদীর চর বেশি ঝুঁকিতে থাকে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হয়, আর উত্তর-পশ্চিম ও বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও তাপের গুরুত্ব বেশি হতে পারে। ভূমিকম্প বিরল হলেও গুরুতর ঝুঁকি, বিশেষত ঢাকা, সিলেট ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগুন ও শিল্প দুর্ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত, যখন প্রধান বিষয় অপরাধ বা চিকিৎসা নয়, ঝুঁকি প্রতিরোধ। আবহাওয়া ও ঝুঁকির তথ্যের জন্য যাচাই না করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের চেয়ে BMD, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বেশি নির্ভরযোগ্য। BMD আবহাওয়া, সামুদ্রিক, নদীবন্দর, ভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী, তাপ, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প ও সুনামির সতর্কতা প্রকাশ করে। FFWC পানির স্তর, বৃষ্টিপাত ও বন্যার তথ্য দেয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ঝুঁকি, আশ্রয়কেন্দ্র, সড়ক ও পর্যবেক্ষণ তথ্যব্যবস্থা (DDM-AWARE) উপলভ্য তথ্য একত্র করে। বিনামূল্যের IVR নম্বর 1090-এ 1 চাপলে সামুদ্রিক তথ্য, 2-এ নদীবন্দর তথ্য, 3-এ দৈনিক আবহাওয়া, 4-এ ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য এবং 5-এ বন্যা বা নদীর পানির স্তরের তথ্য পাওয়া যায়। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (Cyclone Preparedness Programme) বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সঙ্গে সতর্কবার্তা ছড়ায়। স্বেচ্ছাসেবীরা রেডিও, মেগাফোন, পতাকা, লাউডস্পিকার ও হাতের সাইরেনসহ বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করেন। 1 থেকে 3 নম্বর সংকেত প্রস্তুতি বোঝায়, 4 নম্বর সংকেতে স্থানীয়ভাবে সক্রিয়তা শুরু হয়, 5 থেকে 7 নম্বর বিপদ এবং 8 থেকে 10 নম্বর মহাবিপদ বোঝায়। উচ্চতর সংকেতের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ঘর সুরক্ষিত করে পানীয় পানি ও দীর্ঘদিন রাখা যায় এমন খাবার প্রস্তুত করতে এবং উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে। CPP সতর্কবার্তা, সরিয়ে নেওয়া, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও সহায়তা করে। পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা, নিকটস্থ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বা উঁচু দুর্যোগ আশ্রয় (Disaster Killa) এবং সেখানে যাওয়ার নিরাপদ পথ জানা থাকা উচিত। DDM এ জন্য মানচিত্র ও ডেটাবেস দেয়, তবে আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান, ধারণক্ষমতা ও খোলা থাকার অবস্থা বদলাতে পারে। পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজের জলরোধী কপি, পানীয় পানি, শুকনো খাবার, টর্চ, চার্জ করা ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রয়োজনীয় জিনিস সহজে বহনযোগ্য ব্যাগে রাখুন। মূল্যবান জিনিস বন্যার পানির স্তরের ওপরে তুলুন, ছাদ ও নৌকা সুরক্ষিত করুন এবং সময়মতো গবাদিপশু রক্ষা করুন। কেউ পায়ে বা গাড়িতে চলমান বন্যার পানি পার হবেন না। ভূমিকম্পে মাটিতে বসুন, আড়াল নিন এবং ধরে থাকুন; পরে পরাঘাত এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির লাইন সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। বজ্রঝড়ে ভবন আশ্রয় দেয়; খোলা পানি ও একা দাঁড়ানো গাছ এড়িয়ে চলুন। পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, CPP, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা কোস্ট গার্ড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বা সহায়তা দিতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ছড়িয়ে আছে। DDM-এর মানচিত্রে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও Disaster Killa আলাদা করে দেখানো হয়। দেশজুড়ে একক সংরক্ষণ-প্রক্রিয়া, মানসম্মত ফি বা ব্যক্তিগত বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের কোনো নথি নেই। প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুযায়ী সরিয়ে নেওয়া ও আশ্রয় দেওয়ার সময় নারী ও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারকে বিশেষ সুরক্ষা ও অগ্রাধিকার প্রয়োজন। পরিবহন ও প্রবেশের ব্যবস্থা স্থানীয়ভাবে হয় এবং সব জায়গায় এক নয়। জরুরি অবস্থায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং উদ্ধার ও তথ্য সহায়তার জন্য বিনামূল্যের জাতীয় জরুরি নম্বর 999 চব্বিশ ঘণ্টা চালু। DDM দুর্যোগ হেল্পলাইন 1090 এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য 16163-ও তালিকাভুক্ত করে। একটি সরকারি পোর্টালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের 102-ও আছে; এ অমিলের কারণে স্থানীয়ভাবে বর্তমানে নিশ্চিত নম্বর ব্যবহার করা উচিত। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জরুরি অবস্থায় কোস্ট গার্ডের নম্বর 16111। ফোনে অবস্থান, ঝুঁকি, আটকে পড়া বা আহত মানুষের সংখ্যা এবং যাওয়ার পথ জানান। বন্যা, আগুন বা অনুসন্ধান এলাকায় নিজেরা উদ্ধার করতে গেলে আরও মানুষের ঝুঁকি হতে পারে। DDM ও স্থানীয় কমিটি সহায়তা সমন্বয় করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আগুন নেভানো ও উদ্ধার করে, পুলিশ নিরাপত্তা ও যান চলাচলে সহায়তা করে এবং কোস্ট গার্ড সামুদ্রিক ও উপকূলীয় কার্যক্রম সামলায়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও CPP ঘটনার ধরন অনুযায়ী সরিয়ে নেওয়া, পানি, খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক চিকিৎসায় সহায়তা করে। পরিষ্কার পানীয় পানি, ক্ষতিগ্রস্ত জরুরি নলকূপ মেরামত এবং ক্ষয়ক্ষতি, লোকসান ও বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের দ্রুত নথি তৈরি তাৎক্ষণিক সাড়ার অংশ। সরকারি সহায়তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, DDM, জেলা প্রশাসক, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ হতে পারে। ঘটনা ও অনুমোদন অনুযায়ী খাদ্য বা নগদ সহায়তা, চাল, ঢেউটিন, ঘর নির্মাণের অনুদান, কম্বল, শুকনো খাবার এবং শিশু বা গবাদিপশুর খাবার পাওয়া যেতে পারে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (VGF) প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য দিতে পারে। কর্মসংস্থানভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি (KABIKHA) এবং অবকাঠামোভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি (KABITA) নির্দিষ্ট সহায়তাকে কাজ বা অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে। সহায়তা ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের প্রতিবেদন, স্থানীয় তালিকা এবং উপলভ্য সম্পদের ওপর নির্ভর করে; নগদ, আশ্রয়, ক্ষতিপূরণ বা পুনর্নির্মাণের স্বয়ংক্রিয় দেশব্যাপী অধিকার নথিভুক্ত নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের Citizen’s Charter-এ প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের জন্য সর্বোচ্চ দশ কর্মদিবস, ত্রাণের অর্থ বা চাল প্রক্রিয়াকরণের জন্য তিন কর্মদিবস এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক বা অবকাঠামোভিত্তিক কর্মসূচির জন্য সাত কর্মদিবস নির্ধারিত। এই সময়গুলো তহবিল বরাদ্দের প্রক্রিয়াকরণ-লক্ষ্য; প্রতিটি পরিবার ওই সময়ের মধ্যে সহায়তা পাবে—এমন নিশ্চয়তা নয়। ক্ষয়ক্ষতি, লোকসান ও প্রয়োজন যাচাই দিয়ে পুনরুদ্ধার শুরু হয়; এরপর জরুরি সহায়তা, মেরামত, পুনর্নির্মাণ ও জীবিকা পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কর্মসূচি অনুযায়ী বাড়ি, জরুরি নলকূপ, সড়ক, কালভার্ট, সেতু ও সুরক্ষামূলক স্থাপনা মেরামত বা নির্মাণ করা যেতে পারে। পরিকল্পনায় দুর্যোগ-সহনশীল পুনর্নির্মাণ ও প্রস্তুতি যুক্ত করা উচিত। অগ্রগতি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা, প্রবেশাধিকার, তহবিল বরাদ্দ ও ঋতুর ওপর নির্ভর করে। বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে, তবে এতে চিকিৎসার দিকে মূল ফোকাস সরানো হয় না। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সরকারি নম্বর 333 বা সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় অভিযোগ করা যায়। সতর্কতা ও সহায়তায় বাধা দেবেন না, নিজের অবস্থান সত্যভাবে জানান এবং উদ্ধার ও বিতরণের পথ খোলা রাখুন।
বাংলাদেশে দুর্যোগ
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, ভূমিকম্প, বজ্রপাত এবং অন্যান্য বড় জরুরি অবস্থা অন্তর্ভুক্ত। ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী দায়িত্বশীল সংস্থার মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, আবহাওয়া অধিদপ্তর BMD এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র FFWC। সরকারি সতর্কবার্তা, আগাম সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি ও সহজলভ্য জরুরি সহায়তা ঝুঁকি কমায়; সহায়তা ও পুনরুদ্ধার ক্ষয়ক্ষতি, অবস্থান ও সরকারি সম্পদের ওপর নির্ভর করে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

