বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা (প্রাক-প্রাথমিক) নামে পরিচিত এবং সাধারণত এক বছর স্থায়ী হয়। শিশুরা সাধারণত প্রায় ছয় বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু করে; এতে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি থাকে। এরপর ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি নিম্নমাধ্যমিক, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি মাধ্যমিক—যা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) বা সমমানের যোগ্যতায় নিয়ে যায়—এবং ১১শ ও ১২শ শ্রেণি উচ্চমাধ্যমিক—যা উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (HSC) বা সমমানের যোগ্যতায় নিয়ে যায়। বয়সের শর্ত, ভর্তি ও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার নিয়ম প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে বদলাতে পারে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করে; জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবই তৈরি করে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ বিদ্যালয় ও ধর্মীয় বিদ্যালয়-ধারা (মাদ্রাসা) রয়েছে। মাধ্যমিকে সাধারণ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক এবং মাদ্রাসা ধারা আছে। মাদ্রাসা ব্যবস্থায় প্রাথমিক মাদ্রাসা স্তর (ইবতেদায়ী) ১ম–৫ম শ্রেণি, নিম্নমাধ্যমিক মাদ্রাসা স্তর (দাখিল) ৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণি এবং উচ্চমাধ্যমিক মাদ্রাসা স্তর (আলিম) ১১শ–১২শ শ্রেণি জুড়ে; অতিরিক্ত ধর্মীয় বিষয়ও পড়ানো হয়। বেসরকারি ইংরেজি-মাধ্যম বিদ্যালয়ে প্রায়ই O-Level ও A-Level অনুসরণ করা হয়; স্বীকৃতি বা সমমান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা বোর্ডের ওপর নির্ভর করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি সাধারণত স্থানীয় বিদ্যালয়ের মাধ্যমে হয় এবং আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করে। বয়স ও নথির শর্ত বিদ্যালয় ও কর্মসূচিভেদে আলাদা। মহানগর এলাকা এবং জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রের নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ১ম–৯ম শ্রেণির জন্য ডিজিটাল লটারি ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বাইরে স্থানীয় বিজ্ঞপ্তি ও ভর্তি পদ্ধতি প্রযোজ্য। আবেদন করলেই আসন নিশ্চিত হয় না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত বেতন লাগে না এবং আওতাভুক্ত প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ধারায় NCTB পাঠ্যবই বিনামূল্যে দেওয়ার কথা। তবু পরিবারকে প্রায়ই লেখার সামগ্রী, পোশাক, যাতায়াত, খাবার, পরীক্ষা বা ব্যক্তিগত পড়ানোর খরচ দিতে হয়। কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি-মাধ্যম, বেসরকারি এবং অনেক মাদ্রাসা বিদ্যালয়ে ফি লাগে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি ২০২৬ সালের প্রযোজ্য DPE শর্ত মেনে চলে; যোগ্যতা, অঙ্ক ও উপস্থিতির শর্ত কর্মসূচিভেদে আলাদা। স্কুলের খাবার, কিশোর ও মেয়েদের কর্মসূচি এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া শিশুদের এগিয়ে নিতে NGO-র কর্মসূচি স্থান ও কর্মসূচি অনুযায়ী ভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম, পাঠ্যবই ও পরীক্ষা বদলায়। ২০২১ ও ২০২২ সালের প্রাথমিক পাঠ্যক্রম ২০২৫ সালে সংশোধিত হয়; ২০২৬ সালের জন্য বর্তমান নির্দেশনা পাঠ্যবই ও শিক্ষক নির্দেশিকায় প্রযোজ্য। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ের কাঠামো ও SSC পাঠ্যক্রমও প্রযোজ্য বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে। ক্যালেন্ডার, শিফট, উপস্থিতি, পোশাক, পয়ঃনিষ্কাশন, যাতায়াত ও ব্যক্তিগত পড়ানোর ব্যবস্থা বিদ্যালয়ভেদে আলাদা। ২০২৪ সালে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহে কিছু এলাকায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ ছিল; সিলেট এলাকায় বিরতি মোট আট সপ্তাহ পর্যন্ত হয়েছিল। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলক) আইন ১৯৯০-এর ভিত্তি দেয়। ২৮(৩) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত কারণে বৈষম্য থেকে প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত। শিশু আইন ২০১৩ অতিরিক্ত সুরক্ষার দায়িত্ব নির্ধারণ করে। হাইকোর্ট ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ, যদিও সর্বত্র বাস্তবায়ন সমান নয়। প্রথমে বিদ্যালয় প্রশাসন বা পরিচালনা কমিটিতে অভিযোগ দেওয়া যায়; পরে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা জেলা শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (DSHE) অভিযোগ ব্যবস্থায় যেতে পারেন। শিশু সহায়তা ফোন ১০৯৮ ও জরুরি নম্বর ৯৯৯ অতিরিক্ত যোগাযোগের পথ। বিশেষ শিক্ষা বিশেষায়িত বিদ্যালয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে, তবে অঞ্চল ও প্রতিষ্ঠানভেদে প্রাপ্যতা ভিন্ন। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং NGO যুক্ত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার রক্ষা করে। মূল্যায়ন, প্রশিক্ষিত কর্মী, সহায়ক উপকরণ, যাতায়াত, পয়ঃনিষ্কাশন ও যুক্তিসংগত সুবিধার প্রাপ্যতা অসম। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর জাতীয় জরিপ ২০২১ অনুযায়ী ৫–১৭ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রায় ৬০ শতাংশ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে ছিল। ২০২৫ সালের MICS জরিপে ৩৬–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সংগঠিত প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষায় অংশগ্রহণ ১৬.৬% বলা হয়। সমন্বিত উপস্থিতির হার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৫.০%, নিম্নমাধ্যমিকে ৬০.১% এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৫০.৮%। বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল প্রাথমিক বয়সী শিশুদের ৬.৫%, নিম্নমাধ্যমিক বয়সীদের ১৩.১% এবং উচ্চমাধ্যমিক বয়সীদের ৩৩.৯%। সমাপ্তির হার যথাক্রমে ৮৩.৭%, ৬৯.৩% ও ৪৩.৯%। ৭–১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫০.২% মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং ৩৯.২% মৌলিক গণিতের দক্ষতা অর্জন করেছিল। দারিদ্র্য, দূরত্ব, প্রতিবন্ধিতা, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত খরচ ও দুর্যোগে বড় হওয়ার সঙ্গে উপস্থিতি বজায় রাখা বিশেষভাবে কঠিন হয়। ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে যাওয়া আসন ও ভর্তি-প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে; ৮ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে যাওয়া বর্তমান বিষয় ও বিভাগ-সংক্রান্ত নিয়ম অনুসারে হয়।
বাংলাদেশে বিদ্যালয়শিক্ষা
বাংলাদেশের বিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি, এরপর ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি, ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণিতে SSC বা সমমানের যোগ্যতা এবং ১১শ থেকে ১২শ শ্রেণিতে HSC বা সমমানের যোগ্যতা থাকে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত বেতন লাগে না, তবে পোশাক, লেখার সামগ্রী, যাতায়াত, খাবার, পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত পড়ানোর অতিরিক্ত খরচ প্রায়ই হয়। বিদ্যালয়ের ধরন, অবস্থান, আয়, প্রতিবন্ধিতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনুযায়ী প্রবেশাধিকার ও উপস্থিতি বদলে যায়।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

