ভারতের শিল্পকলা একটিমাত্র শৈলী বা ইতিহাসের একটিমাত্র ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে অভিজাত, জনপ্রিয়, পবিত্র, গার্হস্থ্য, আদিবাসী, লোকজ, ধ্রুপদি, বাণিজ্যিক ও পরীক্ষামূলক শিল্পরূপ। মন্দির, স্তূপ, মসজিদ, সমাধি, দুর্গ, প্রাসাদ, জনসাধারণের ভবন ও আধুনিক পরিসরে স্থাপত্য ও ভাস্কর্য দেখা যায়। নকশায় সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া পৃষ্ঠপোষক, প্রযুক্তি, বিশ্বাস ও আঞ্চলিক উপকরণের ছাপ থাকে। চিত্রকলার ধারায় দেয়ালচিত্র ও পাণ্ডুলিপির অলংকরণ থেকে শুরু করে মুঘল ও আঞ্চলিক ক্ষুদ্রচিত্র, লোকচিত্র, আধুনিক শিল্প এবং ডিজিটাল কাজ রয়েছে। ছবিতে কাহিনি, ভক্তি, মর্যাদা, প্রকৃতি, প্রতিবাদ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ধরা পড়তে পারে। দৈনন্দিন ও আনুষ্ঠানিক শিল্পের মধ্যে রয়েছে রঙ্গোলি ও এ-জাতীয় মেঝের নকশা, বস্ত্র, মৃৎশিল্প, গয়না, কাঠের কাজ, ধাতুর কাজ, সূচিশিল্প ও ঝুড়ি বোনা। এসব চর্চার মাধ্যমে পরিবার ও কারুশিল্পী সম্প্রদায়ের মধ্যে স্থানীয় জ্ঞান প্রায়ই প্রজন্মান্তরে পৌঁছায়। ভারতীয় ধ্রুপদি নৃত্যের ধারায় নড়াচড়া, ছন্দ, মুদ্রা, অভিব্যক্তি, পোশাক ও গল্পকথন মিলিত হয়। লোকজ ও সম্প্রদায়ভিত্তিক নৃত্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ; এগুলো প্রায়ই ঋতু, কাজ, বিয়ে বা উৎসবের সঙ্গে যুক্ত। সঙ্গীতের মধ্যে হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকী ধ্রুপদি পদ্ধতির পাশাপাশি ভক্তিমূলক, লোকজ, চলচ্চিত্রের, স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় ধারাও রয়েছে। পরিবেশনায় প্রায়ই কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা, তাৎক্ষণিক সৃজন এবং পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া একসঙ্গে থাকে। নাটক, পুতুলনাচ, গল্পকথন ও সিনেমায় দৃশ্যনকশা, সঙ্গীত, ভাষা ও পরিবেশনা একত্র হয়। ভারতের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি বহু ভাষা ও অঞ্চলে গড়ে উঠেছে; তা শুধু হিন্দি ভাষার সিনেমায় সীমাবদ্ধ নয়। সমকালীন শিল্পীরা পরিচয়, পরিবেশ, প্রযুক্তি, বৈষম্য, স্মৃতি ও বিশ্বজীবন নিয়ে কাজ করেন। ন্যায্য পারিশ্রমিক, সাংস্কৃতিক মালিকানা, সংরক্ষণ ও প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন শিল্প সৃষ্টি ও ভাগ করে নেওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করে।
ভারতে শিল্পকলা
ভারতের শিল্পকলার মধ্যে রয়েছে প্রাচীন ভাস্কর্য, রাজদরবারের চিত্রকলা, আঞ্চলিক হস্তশিল্প, পরিবেশনা, সিনেমা ও সমকালীন শিল্পকর্ম। একই শিল্পরীতিতে পবিত্র আচার, গল্পকথন, সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং দৈনন্দিন সাজসজ্জা মিলিত হতে পারে। প্রতিটি ঐতিহ্যের নিজস্ব শিল্পী, উপকরণ, অর্থ ও নিয়ম রয়েছে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

