ভারতের ঐতিহ্য কোনো একক, অপরিবর্তিত প্রাচীন ব্যবস্থা নয়; এটি জীবন্ত চর্চা। কোনো রীতি ব্যাপকভাবে প্রচলিত, নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমিত, নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়া, অথবা শুধু কোনো একটি পরিবারের কাছে অর্থবহ হতে পারে। উৎসবে প্রায়ই উপাসনা, দেখা-সাক্ষাৎ, খাবার, সাজসজ্জা, উপহার, সংগীত ও জনসমাগম থাকে। দীপাবলি, ঈদ, বড়দিন, গুরুপরব, ফসলের উৎসব এবং নানা আঞ্চলিক উৎসব বিভিন্নভাবে পালিত হয়। জন্ম, নামকরণ, বয়ঃসন্ধি, বিয়ে ও মৃত্যুর সঙ্গে পারিবারিক ও ধর্মীয় আচার জড়িত থাকতে পারে। আচারগুলোর ক্রম, অংশগ্রহণকারী, পোশাক ও দায়িত্ব জনগোষ্ঠীভেদে অনেক আলাদা। বিয়ের ঐতিহ্যে দুই পরিবারের পরিচয়, বাগদানের অনুষ্ঠান, আনুষ্ঠানিক আচার, ভোজ, সংগীত ও উপহার বিনিময় থাকতে পারে। কিছু দম্পতি একাধিক ঐতিহ্য মিলিয়ে নেন, অনুষ্ঠান সরল করেন বা দেওয়ানি পদ্ধতি বেছে নেন। আতিথেয়তার অংশ হিসেবে পানি, চা, নাশতা বা খাবার দেওয়া হতে পারে। অতিথিদের কৃতজ্ঞতা দেখানোর প্রত্যাশা থাকে; আর সম্মতিতে পৌঁছানোর আগে আয়োজক ও অতিথিরা ভদ্রভাবে একাধিকবার প্রস্তাব ও প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। ভাষা ও পরিবেশ অনুযায়ী অভিবাদন ভিন্ন হয়। নমস্তে বা নমস্কার বহুল পরিচিত হলেও করমর্দন, কথ্য অভিবাদন এবং আঞ্চলিক বা ধর্মীয় রীতিও প্রচলিত। রঙ্গোলি, ফুলের সাজ, প্রদীপ, বস্ত্র ও দেহে আঁকা নকশার মতো সাজসজ্জা ও কারুশিল্প বাড়ি ও উদ্যাপনের অংশ হতে পারে। স্থানীয় নাম, নকশা, উপকরণ ও অর্থকে একে অন্যের সমতুল্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঐতিহ্য মানুষের অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি গড়ে তুলতে ও জ্ঞান প্রজন্মান্তরে পৌঁছাতে পারে, তবে চাপ বা বর্জনও তৈরি করতে পারে। সমতা, সম্মতি, খরচ বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক রীতি নিয়ে মানুষ নিয়মিত আলোচনা করেন, সংস্কার করেন, নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন বা তা না-ও মানতে পারেন।
ভারতের ঐতিহ্য
ভারতের ঐতিহ্য উৎসব, খাবার, পোশাক, উপাসনা, সংগীত, কারুশিল্প ও জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করে। অঞ্চল, ধর্ম, জাত, জনজাতি, ভাষা ও পরিবারভেদে ঐতিহ্যের রূপ ভিন্ন। আধুনিক জীবন ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়েও ঐতিহ্য বদলায়।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

