নেপালি ঐতিহ্যকে প্রায়ই স্থানীয় শব্দ পরম্পরা, সংস্কৃতি ও রীতি-রেওয়াজ দিয়ে বর্ণনা করা হয়। ছাড়পর্ব ও যাত্রা উৎসব ও শোভাযাত্রার ঐতিহ্য বোঝায়; গুঠি হলো সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা বিশেষত কাঠমান্ডু উপত্যকায় ধর্মীয়, সামাজিক ও উৎসবের কাজ সংগঠিত করতে পারে। পরিবার, মন্দির ও মঠের কমিটি, সম্প্রদায়ের গুঠি, গোত্র ও জাতিগোষ্ঠীর সংগঠন, গুরু এবং কারিগররা প্রধান রক্ষক। সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় করে; স্থানীয় সরকার সাংস্কৃতিক কাজ, উৎসবের ব্যবস্থা ও কিছু নিবন্ধন পরিচালনা করে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, NFDIN, নেপাল একাডেমি ও গুঠি সংস্থানের সংরক্ষণ, গবেষণা বা প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা আরও নির্দিষ্ট। বার্ষিক ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে দশैं—যাতে পারিবারিক পুনর্মিলন, টিকা, আশীর্বাদ, পূজা ও ফসলের যোগ রয়েছে—এবং তিহার; এর মধ্যে কাক তিহার, কুকুর তিহার, গাই তিহার, লক্ষ্মীপূজা, म्ह পূজা, ভাই টিকা, প্রদীপ ও গান রয়েছে। তीजে সাধারণত নারীদের গান ও নাচ, উপবাস এবং মায়ের বাড়িতে যাওয়া থাকে। কাঠমান্ডু উপত্যকার ইন্দ্র যাত্রায় কুমারীর রথ, লাখে নৃত্য, ঢোল ও গুঠির আয়োজন একত্রিত হয়। ছট বিশেষত মধেশ ও তরাইয়ে সূর্য ও জলকেন্দ্রিক পালনের সঙ্গে যুক্ত। জনৈ পূর্ণিমা, গাই যাত্রা, বুদ্ধ জয়ন্তী, লোসার, সাকেলা, উদৌলি-উভৌলি, বিবাহ পঞ্চমী ও ইয়োমারি পূর্ণির আঞ্চলিক, সম্প্রদায়গত বা ধর্মীয় তাৎপর্য আলাদা। জীবনচক্রের রীতির মধ্যে জন্ম ও নামকরণ, পাসনি, বয়ঃসন্ধি বা ব্রতবন্ধুর মতো দীক্ষা—অথবা সম্প্রদায়ভিত্তিক সমতুল্য অনুষ্ঠান—বিয়ে, অন্ত্যেষ্টি ও পূর্বপুরুষের আচার থাকতে পারে। সারা দেশে একক কোনো ধারাবাহিকতা নেই। আচার পরিচালনাকারী, ভাষা, পোশাক, খাবার ও সংগীত সম্প্রদায় ও অঞ্চলভেদে বদলায়। বিয়ের ঐতিহ্যে পরিবার-নির্ধারিত বিয়ে থাকতে পারে, তবে নেপালে আইনি ন্যূনতম বিয়ের বয়স ২০। জন্ম, বিয়ে ও মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় স্তরে নিবন্ধনের শর্তও রয়েছে। অঞ্চলভেদে চর্চা বিশেষভাবে বৈচিত্র্যময়। হিমালয়ের সম্প্রদায়ে শেরপা, লোপা, মানাং, তিব্বতি-বৌদ্ধ বা বন-সম্পর্কিত ঐতিহ্য এবং লোসার বা মঠের আচার-চক্র থাকতে পারে। পাহাড়ি সম্প্রদায়ে গুরুং, মগর, তামাং, রাই, লিম্বু ও থামির ঐতিহ্য রয়েছে। কাঠমান্ডু উপত্যকা নেওয়ার হিন্দু-বৌদ্ধ আচারজীবন, গুঠি, যাত্রা, পৌভা চিত্রকলা এবং ধাতু ও কাঠের কাজের জন্য পরিচিত। তরাই ও মধেশের ঐতিহ্যে থারু, মৈথিলি, ভোজপুরি ও আওধি চর্চা রয়েছে; ছট, জিতিয়া, হোলি ও মিথিলা শিল্প এর উদাহরণ। সংগীত ও নৃত্য উৎসব, ফসল, ধর্মীয় চর্চা, জীবনচক্রের অনুষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের সমাবেশের সঙ্গে যুক্ত। পূর্বাঞ্চলের উদাহরণ মারুনি, চ্যাব্রুং, ধান, দিশকা, হুরা ও সাকেলা; পশ্চিমে দেউড়া, ময়ূর, ঘাটু ও সোরাঠি; তরাইয়ে ঝিঝিয়া, জাতজাতিন, বালান ও লাঠি। মাদল, ঝ্যামটা ও ঢোলের মতো বাদ্যযন্ত্র এসব পরিবেশনায় ব্যবহৃত হয়। পোশাক ও অলংকার অঞ্চল, জলবায়ু, জাতিগোষ্ঠী ও আচার-অনুষ্ঠানের ব্যবহার অনুসারে বদলায়; উদাহরণের মধ্যে শাড়ি ও চোলো, দৌরা-সুরুওয়াল, টিকা, সিঁদুর, পোতে এবং সম্প্রদায়বিশেষের পোশাক রয়েছে। কারুশিল্পের মধ্যে কাঠ, পাথর ও ধাতুর খোদাই, পৌভা ও থাংকা চিত্রকলা, মৃৎশিল্প, তাঁতের বস্ত্র, পশমিনা ও উল, হাতে তৈরি কাগজ, ঝুড়ি, বাঁশের কাজ, গয়না, মিথিলা দেয়ালচিত্র ও জাতিগোষ্ঠীর পোশাক রয়েছে। পরিবারে শেখানো, গুরু বা শিক্ষানবিশির মাধ্যমে এগুলো প্রজন্মান্তরে যেতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া কোনো কারুশিল্প নিজে থেকেই জীবন্ত ঐতিহ্য প্রমাণ করে না; সাংস্কৃতিক জ্ঞান, সামাজিক ব্যবহার ও শেখানোর পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন ও বাজার ঐতিহ্য চালু রাখতে সহায়তা করলেও নকশা, উপকরণ ও ব্যবহার বদলে দিতে পারে। অংশগ্রহণ সাধারণত পরিবার, সম্প্রদায়ের আমন্ত্রণ, গুঠি, মন্দির বা মঠ, কিংবা স্থানীয় উৎসব কমিটির মাধ্যমে হয়। জনসাধারণের যাত্রায় সাধারণত সবাই যেতে পারে; তবে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ, আচার-ভূমিকা বা পবিত্র কাজ সম্প্রদায় বা ধর্মীয় নিয়মে সীমিত হতে পারে। ছবি তোলা, জুতা পরা, খাবারের সংস্পর্শ এবং ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রদক্ষিণ—সবই স্থানভিত্তিক নির্দেশনা অনুসরণ করে। উপহার, দক্ষিণা, নিবেদন, পোশাক, ভোজ, যাতায়াত ও কারুশিল্পের উপকরণে খরচ বদলায়। জনউৎসবে সাধারণত একক প্রবেশমূল্য নেই, তবে ঐতিহ্যস্থলে আলাদা ফি থাকতে পারে। তারিখ নেপালি বা চন্দ্রসৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করে বলে বছরভেদে বদলায়; পৌরসভা নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে যানবাহন বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে। নেপালের সংবিধান ভাষার ব্যবহার, সাংস্কৃতিক জীবনে অংশগ্রহণ এবং ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অধিকার রক্ষা করে। সাংস্কৃতিক চর্চা সমতা, সম্মতি, নারীর সুরক্ষা, সহিংসতার নিষেধাজ্ঞা বা বর্ণভিত্তিক বর্জন ও বৈষম্যের নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। নেপাল ২০১০ সালে UNESCO ২০০৩ কনভেনশন অনুমোদন করে; জাতীয় অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তালিকা প্রকল্পটি ২০২৬–২০২৮ সালের জন্য তালিকাভুক্ত। অভিবাসন, শিক্ষা, নগরজীবন, পর্যটন, গণমাধ্যম ও দুর্যোগ ঐতিহ্য শেখার ধারাবাহিকতা দুর্বল করতে পারে; পরিবারে শিক্ষা, গুরুর প্রশিক্ষণ, স্কুল, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, সম্প্রদায়ের তালিকা এবং স্থানীয় সরকারের সহায়তা তা টিকিয়ে রাখতে পারে। ধর্মীয় মতবাদ ধর্ম বিষয়ের, রেসিপি ও পুষ্টি খাবার বিষয়ের এবং ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা ইতিহাস বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত; ঐতিহ্যে এগুলোর উল্লেখ থাকবে শুধু পুনরাবৃত্ত সামাজিক রীতি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে।
নেপালে ঐতিহ্য
নেপালের ঐতিহ্য হলো পরিবার, সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও দক্ষ কারিগরদের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে চলা পুনরাবৃত্ত চর্চা, প্রতীক ও প্রকাশরীতি। এর মধ্যে বার্ষিক উৎসব, জীবনচক্রের অনুষ্ঠান, পারিবারিক রীতি, আঞ্চলিক পোশাক, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প ও আতিথেয়তার প্রচলিত রূপ রয়েছে। হিমালয়, পাহাড়, কাঠমান্ডু উপত্যকা ও তরাই এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বর্ণ, ভাষা ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ভেদে এর অর্থ ও চর্চা ব্যাপকভাবে আলাদা।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

