পাকিস্তানের ভূভাগে পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, মরুভূমি, জলাভূমি এবং দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে বলে দেশটিতে নানা ধরনের প্রাকৃতিক অঞ্চল দেখা যায়। হিমালয়, কারাকোরাম ও হিন্দুকুশ পর্বতমালায় রয়েছে সুউচ্চ শৃঙ্গ, হিমবাহ, উপত্যকা ও দ্রুতগতির নদী। সিন্ধু সমভূমি কৃষিকাজ ও বসতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর মরুভূমি ও শুষ্ক এলাকায় পানির ব্যবহার সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। পাকিস্তানের প্রকৃতির সঙ্গে সিন্ধু নদব্যবস্থা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। নদী, খাল, প্লাবনভূমি, হ্রদ ও জলাভূমি বাড়িঘর, কৃষিকাজ, গবাদিপশু, মাছ, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য পানি জোগায়। মৌসুমি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তবে বন্যা মাটিও বহন করে এবং জলাভূমিকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। পাকিস্তানের পার্বত্য অঞ্চল, নদীতীর, শুষ্ক এলাকা ও উপকূলীয় পরিবেশে বন রয়েছে। বন মাটির ক্ষয় কমায়, ছায়া দেয়, কার্বন সঞ্চয় করে, কাঠ ও অন্যান্য উপকরণ জোগায় এবং প্রাণীদের আবাসস্থল তৈরি করে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বা জমির অতিরিক্ত ব্যবহারে কিছু বনভূমিতে গাছপালা বিরল। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে তুষার চিতা, মার্কহর, আইবেক্স, বন্য ভেড়া, ভালুক, গেজেল, ডলফিন, কচ্ছপ, পরিযায়ী পাখি এবং আরও অনেক ছোট প্রজাতি। তাদের টিকে থাকা নির্ভর করে নিরাপদ আবাসস্থল, পরিষ্কার পানি, পর্যাপ্ত খাবার এবং অবৈধ শিকার ও ক্ষতিকর ভূমি-ব্যবহার থেকে সুরক্ষার ওপর। পাকিস্তানের উপকূল ও ম্যানগ্রোভ অঞ্চলও প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। ম্যানগ্রোভ উপকূলরেখা রক্ষায় সাহায্য করে, মাছের পোনা বেড়ে ওঠার আশ্রয় দেয় এবং পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জীবনধারণে সহায়তা করে। সমুদ্রদূষণ, গাছ কাটা, নদীর প্রবাহের পরিবর্তন এবং উপকূলীয় ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া এসব ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে। মানুষ কৃষিকাজ, পশুচারণ, মাছ ধরা, বন, পর্যটন, ওষুধ এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রকৃতি ব্যবহার করে। কোনো বাস্তুতন্ত্র যতটা ব্যবহার সহ্য করে আবার পুনরুদ্ধার হতে পারে, ব্যবহারের মাত্রা তার মধ্যে থাকলে তা উপকারী হতে পারে। মাটি, পানি, উদ্ভিদ বা প্রাণী পুনরায় তৈরি হওয়ার চেয়ে দ্রুত ব্যবহার করা হলে তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। সংরক্ষিত এলাকা, জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, শিকার সংরক্ষণ এলাকা, কমিউনিটির সংরক্ষণ এলাকা এবং স্থানীয় তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো রক্ষায় সাহায্য করতে পারে। এগুলোর সাফল্য নির্ভর করে স্পষ্ট নিয়ম, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ, নিয়ম কার্যকর করা, ন্যায্য সুবিধা এবং এসব এলাকার কাছে আগে থেকেই বসবাসকারী মানুষের প্রতি সম্মানের ওপর। বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের শুরু হয় স্থানীয় ভূদৃশ্য পর্যবেক্ষণ, পানি ও মাটির প্রধান চাহিদা শনাক্ত করা, অপচয় কমানো, প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি এড়ানো এবং পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার মাধ্যমে। পরিবেশের যত্নের সঙ্গে নিরাপদ জীবিকা, দুর্যোগ পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল উন্নয়ন যুক্ত থাকলে পাকিস্তানে প্রকৃতি সুরক্ষা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে।
পাকিস্তানের প্রকৃতি
পাকিস্তানের প্রকৃতিতে রয়েছে উঁচু পর্বত, শুষ্ক মরুভূমি, উর্বর সমভূমি, বন, জলাভূমি, নদী ও উপকূলীয় এলাকা। পাকিস্তানের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা খাদ্য, পানি, প্রাণী, উদ্ভিদ ও মানুষের জীবনধারণে সহায়তা করে, তবে তাপ, পানির সংকট, দূষণ ও আবাসস্থল হারানোর কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ব্যবস্থা বোঝা মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে সেগুলো ব্যবহার ও সুরক্ষায় সাহায্য করে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

