বাংলাদেশে দেওয়ানি আইন দেশজুড়ে প্রযোজ্য এবং ব্যক্তিগত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আইনি সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। এতে চুক্তি গঠন ও ভঙ্গ, সম্পত্তি ও জমি, পারিবারিক সম্পর্ক, উত্তরাধিকার, ক্ষতিপূরণ, আদালতের কার্যক্রম এবং রায় কার্যকর করা অন্তর্ভুক্ত। আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে একই হলেও ফি, ব্যবহারিক প্রক্রিয়া ও মামলার সময় আদালত, জেলা ও মামলাভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। এই বিবরণ 2026 সালের 5 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গবেষিত আইনি অবস্থার প্রতিফলন। দেওয়ানি দাবি সাধারণত দেওয়ানি কার্যবিধি (Code of Civil Procedure 1908) অনুসরণ করে। কোনো আইন এখতিয়ার বাদ না দিলে দেওয়ানি আদালত দাবি নির্ধারণ করে। আদালতের স্তর Assistant Judge ও Senior Assistant Judge থেকে Joint District Judge এবং District Judge হয়ে Supreme Court of Bangladesh-এর High Court Division ও Appellate Division পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমান বিচারিক নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ আর্থিক এখতিয়ার 15 লাখ Taka-র কম হলে Assistant Judge-এর, 15 থেকে 25 লাখ Taka হলে Senior Assistant Judge-এর এবং 25 লাখ Taka থেকে Joint District Judge-এর; নির্দিষ্ট এখতিয়ার বিষয়বস্তু ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপরও নির্ভর করে। জমির ক্ষেত্রে সম্পত্তির অবস্থান সাধারণত নির্ধারক। অন্যান্য দাবিতে বিবাদীর বাসস্থান বা ব্যবসার স্থান এবং প্রাসঙ্গিক ঘটনা যেখানে ঘটেছে তা নির্ধারক হতে পারে। প্রমাণের দায় যার, তাকেই অভিযোগ করা ঘটনা প্রতিষ্ঠা করতে হয়। Limitation Act 1908 বিরোধী পক্ষ আপত্তি না করলেও মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি, আপিল বা আবেদন আটকাতে পারে; নির্দিষ্ট মেয়াদ দাবির ধরন অনুযায়ী বদলায়। চুক্তির জন্য সাধারণত স্বাধীন সম্মতি, আইনগতভাবে চুক্তি করতে সক্ষম পক্ষ, বৈধ প্রতিদান ও বৈধ উদ্দেশ্য লাগে। Contract Act 1872 অনুযায়ী চুক্তির সক্ষমতার জন্য সাধারণত প্রযোজ্য আইনে সাবালক হওয়া, মানসিক সক্ষমতা এবং আইনি অযোগ্যতা না থাকা প্রয়োজন। Majority Act 1875 অনুযায়ী সাধারণ সাবালকত্বের বয়স 18; আদালত-নিযুক্ত অভিভাবক বা Court of Wards কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করলে তা 21 হতে পারে। বিশেষ আইনে লিখিত দলিল, সাক্ষী বা নিবন্ধনের অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে। চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে Contract Act-এ দাবি সাধারণত স্বাভাবিক বা আগে থেকে অনুমানযোগ্য ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেয়, দূরবর্তী বা পরোক্ষ ক্ষতির নয়। মামলাভেদে Specific Relief Act 1877 অনুযায়ী দখল সুরক্ষা, সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, ঘোষণামূলক প্রতিকার, নিষেধাজ্ঞা বা রিসিভারও পাওয়া যেতে পারে; Sale of Goods Act 1930-এ পণ্য বিক্রির বিশেষ নিয়ম রয়েছে। জমির ক্ষেত্রে পর্যালোচনা সাধারণত মালিকানার ধারাবাহিকতা ও মালিকানার দলিল (Dalil) থেকে নিবন্ধন, তারপর নামজারি বা নাম-রেকর্ড হালনাগাদ (Namejari) এবং Khatian হালনাগাদ পর্যন্ত চলে। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিতে সাধারণত নিবন্ধিত দলিল লাগে; বিক্রির সাধারণ চুক্তি নিজে মালিকানা বা জামানত-স্বার্থ হস্তান্তর করে না। দান, ইসলামি দান (Heba) এবং মালিকানা, অন্য জমির অধিকার, ইজারা ও বন্ধক-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট দলিলেও নিবন্ধন প্রয়োজন। দলিল সাধারণত জমির অবস্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত Sub-Registrar-এর কাছে তিন মাসের মধ্যে উপস্থাপন করতে হয়। অনিবন্ধিত দলিলের আইনি কার্যকারিতা হারাতে পারে। DLRS ভূমি রেকর্ড ও ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র (Mouza Map) প্রস্তুত ও সংশোধন করে; ভূমি অফিস ও ভূমি মন্ত্রণালয় নামজারি এবং DCR বিষয়ে যুক্ত; অনলাইন সেবায় আবেদন করা যায়। Khatian মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রকৃত মালিকানা বিরোধে দেওয়ানি আদালতে মামলা লাগতে পারে। দলিলের মূল্য ও ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন, স্ট্যাম্প ও কর, নামজারি, নকল এবং পেশাগত সহায়তার খরচ বদলায়। পারিবারিক ও উত্তরাধিকার বিষয় একক কোনো পারিবারিক আইনব্যবস্থার অংশ নয়। প্রযোজ্য আইন ধর্ম, পারিবারিক সম্পর্ক, বসবাসের স্থান, সম্পত্তির ধরন এবং বিদ্যমান উইলের ওপর নির্ভর করে। মুসলিম নাগরিকদের ক্ষেত্রে Muslim Personal Law (Shariat) Application Act 1937 এবং Muslim Family Laws Ordinance 1961-সহ প্রাসঙ্গিক আইন রয়েছে। আরেকটি বিয়ের আগে সাধারণত Arbitration Council-এর লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। তালাকের ক্ষেত্রে স্বামীকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চেয়ারম্যানকে জানাতে এবং স্ত্রীকে কপি দিতে হয়। Arbitration Council ভরণপোষণ নির্ধারণ করতে পারে; Assistant Judge তা পর্যালোচনা করতে পারেন। মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন করতে হয় এবং Nikah Registrar এর দায়িত্বে থাকেন। অন্য ধরনের বিয়েতে বরকে সাধারণত 30 দিনের মধ্যে জানাতে হয়। Hindu Marriage Registration Act 2012 অনুযায়ী হিন্দু বিয়ে Hindu Marriage Registrar দিয়ে নথিভুক্ত হতে পারে; হিন্দু ব্যক্তিগত ও প্রথাগত আইনও প্রাসঙ্গিক থাকে। খ্রিষ্টান বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ বিশেষ করে Christian Marriage Act 1872 এবং Divorce Act 1869 দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। Family Court বিবাহবিচ্ছেদ, বৈবাহিক দেনমোহর (Dower), ভরণপোষণ, দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহাল, অভিভাবকত্ব ও হেফাজতসহ বিষয় দেখে। দাবি দাখিলের পর সমন ও শুনানির তারিখ দেওয়া হয়; সেখানে হাজিরার তারিখ সাধারণত 30 দিনের পরে নির্ধারণ করা হয় না, তবে মোট সময় মামলাভেদে নির্ভরশীল। উত্তরাধিকারের নিয়ম ধর্ম ও সম্পত্তির ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। মুসলিম উত্তরাধিকার সাধারণত শরিয়া অনুসরণ করে; কৃষিজমি সংশ্লিষ্ট Shariat Act-এর প্রয়োগ থেকে বাদ। Succession Act 1925-এ উইল ছাড়া ও উইলসহ উত্তরাধিকারের সাধারণ নিয়ম আছে, তবে কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য কিছু অংশ থেকে বাদ পড়েন। উইলকারীর অপ্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া এবং সুস্থ মস্তিষ্কে থাকা সাধারণত প্রয়োজন। District Judge বা যোগ্য দেওয়ানি আদালত Probate বা Letters of Administration দিতে পারে। তাই বাংলাদেশের সব পরিবারের জন্য একক উত্তরাধিকার-অংশের তালিকা নেই। দেওয়ানি দায় তার কারণ অনুযায়ী বদলায়। চুক্তিগত দায় প্রধানত Contract Act অনুসরণ করে। বেআইনি কাজ, অবহেলা বা কর্তব্যভঙ্গ থেকে মৃত্যু হলে Fatal Accidents Act 1855 অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তানের জন্য নির্বাহক, প্রশাসক বা আইনগত প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন। পর্যালোচিত আইনসংকলনে স্বতন্ত্র সাধারণ Tort Act শনাক্ত করা যায়নি; তাই টর্ট মামলা Common Law-এ বিকশিত নীতি এবং খাতভিত্তিক আইনের ওপর নির্ভর করে এবং মামলাভিত্তিক মূল্যায়ন দরকার। লিখিত জবাব দাখিলের পর Code of Civil Procedure 1908 অনুযায়ী মধ্যস্থতা হতে পারে। আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে অথবা Legal Aid Officer, আইনজীবী বা প্যানেল মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে করাতে পারে; 10 দিনের মধ্যে নিয়োগ এবং সাধারণত 60 দিনের মধ্যে মধ্যস্থতা শেষ হওয়ার কথা, সর্বোচ্চ আরও 30 দিন বাড়ানো যেতে পারে। আদালত-সংযুক্ত ও সরকারি মধ্যস্থতায় মধ্যস্থতাকারীর ফি লাগে না; ব্যক্তিগত মধ্যস্থতাকারীর ফি সম্মতিতে নির্ধারিত হয়। আইনগত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে সালিশি চুক্তি সালিশি আইন (Salish Ain 2001) অনুযায়ী কার্যকর হতে পারে; আপিলেও মধ্যস্থতার বিধান রয়েছে। National Legal Aid Services Organization (NLASO) আর্থিক কষ্ট, নিঃস্বতা বা আর্থসামাজিক অসামর্থ্যে থাকা ব্যক্তিকে আইনি পরামর্শ, প্রতিনিধিত্ব, কিছু প্রক্রিয়াগত খরচ এবং মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীর পারিশ্রমিক দেয়। জেলা আইনি সহায়তা অফিস, অনলাইন আবেদন এবং 16699 হেল্পলাইনের মাধ্যমে দেশজুড়ে সুযোগ রয়েছে। চূড়ান্ত রায় Code of Civil Procedure অনুযায়ী রায় দেওয়া আদালত বা যে আদালতে তা স্থানান্তর করা হয়েছে, সেই আদালত কার্যকর করে। রায়ের ওপর নির্ভর করে সম্পত্তি হস্তান্তর, সম্পদ আটক ও বিক্রি, গ্রেপ্তার বা আটক এবং রিসিভার নিয়োগের ব্যবস্থা হতে পারে। ডিক্রি সাধারণত জারির পর বা সংশ্লিষ্ট খেলাপের পর সর্বোচ্চ 12 বছর পর্যন্ত কার্যকর করা যায়; নিষেধাজ্ঞার আদেশে ব্যতিক্রম রয়েছে। ধারা 94A অনুযায়ী আদালত সরকারি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চাইতে এবং পরিপালন প্রতিবেদন দিতে বলতে পারে। Civil Procedure Amendment Ordinance 2025-এর পরিবর্তিত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করার আগে সময়গত প্রযোজ্যতা আবার যাচাই করা উচিত। মামলা মূল্যায়নে মূল ও সত্যায়িত কপি, মালিকানার ধারাবাহিকতা, Khatian ও Mouza Map, নামজারির নথি, পরিচয়পত্র এবং প্রাসঙ্গিক হলে বিয়ে, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, উইল, চুক্তি ও সাক্ষীর বিবৃতি গুছিয়ে রাখা উচিত। কোন কর্তৃপক্ষ, Family Court, Civil Court, মধ্যস্থতা, সালিশ বা রায় কার্যকরের আবেদন বেছে নেওয়ার আগে ধর্ম, জমির শ্রেণি, বসবাসের স্থান, দলিলের ধরন, বিরোধের অঙ্ক এবং পাওয়া প্রমাণ পরিষ্কার করুন। আদালত, আইনজীবী, নিবন্ধন, সমন, নকল ও রায় কার্যকরের খরচ দেশজুড়ে একক নির্দিষ্ট হার নয়।
বাংলাদেশে দেওয়ানি আইন
বাংলাদেশে দেওয়ানি আইন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি, সম্পত্তি, পারিবারিক বিষয়, উত্তরাধিকার, দায় এবং দাবি আদায়সহ ব্যক্তিগত আইনি সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। বিরোধের অঙ্ক ও বিষয় অনুযায়ী দেওয়ানি আদালত, Family Court, ভূমি অফিস, জেলা জজ এবং Supreme Court of Bangladesh প্রাসঙ্গিক হতে পারে। পারিবারিক ও উত্তরাধিকার বিষয় প্রায়ই ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনেও পরিচালিত হয়; চুক্তি, জমি ও প্রক্রিয়ার বিষয় প্রধানত দেশব্যাপী আইনের অধীনে। মধ্যস্থতা, সরকারি আইনি সহায়তা ও দেওয়ানি মামলা দাবি স্পষ্ট করা বা কার্যকর করার ভিন্ন পথ।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

