মিয়ানমারের অপরাধের হার বা ভুক্তভোগীদের ওপর জাতীয় জরিপের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রাথমিক উৎসে নেই। তাই সার্বিক ব্যাপ্তির সঠিক সংখ্যা দেওয়া যায় না। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও নে পি তাউতে ব্যাগ ছিনতাই, পকেটমারি, জনসমাগমস্থল বা হোটেলে অরক্ষিত জিনিস চুরি, বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে চুরি, ট্যাক্সিসংশ্লিষ্ট হামলা এবং বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণার ঝুঁকি আছে বলে জানানো হয়েছে। মিয়ানমারের নগদনির্ভর অর্থনীতিতে নগদ ও গয়না চোখের আড়ালে রাখা নিরাপদ। উপলভ্য ভ্রমণ তথ্যে বিদেশি দর্শনার্থীদের ওপর সহিংসতা বিরল বলা হলেও হামলা ও ট্যাক্সিতে আক্রমণের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। সীমান্ত এলাকার ঝুঁকির ধরন আলাদা। কায়িন রাজ্যের মিয়াওয়াডি, শোয়ে কোক্কো ও KK Park, এবং পূর্ব শান রাজ্যের তাচিলেইক, মিউজ, মং লা ও লাউক্কাইয়ের মতো স্থান মানব পাচার, অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি, অবৈধ জুয়া এবং জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বার্তা সেবায় ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রায়ই নিয়োগ শুরু হয়। কিছু ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়, পাহারা দেওয়া হয়, মুক্তিপণ চাওয়া হয়; তারা যৌন শোষণ, জোরপূর্বক বিয়ে, জোরপূর্বক সারোগেসি বা অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য হওয়ার শিকার হতে পারেন। স্থানীয় ও বিদেশি—উভয় নাগরিকই আক্রান্ত হতে পারেন। সীমান্ত এলাকা বা সশস্ত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে সরকারি প্রতিবেদন ও সুরক্ষা অনির্ভরযোগ্য হতে পারে। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৮টি দেশ থেকে ৪,৬৬৬ জন বিদেশি ভুক্তভোগী সম্পর্কে অনুসন্ধান পায়; ১,৩৯৯ জনকে উদ্ধার করে এবং ১,৩২৭ জনকে নিজ দেশে পাঠায়। এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ২০২৫ সালে মিউজে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ১৩৮ জনকে গ্রেপ্তারের কথা কর্তৃপক্ষ জানায়। এসব সংখ্যা জানানো আইনপ্রয়োগের কার্যক্রম বর্ণনা করে, অপরাধের মোট ব্যাপ্তি নয়। পারিবারিক সহিংসতা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতাসহ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও প্রাসঙ্গিক। অনেক ঘটনা জানানো হয় না, পূর্ণাঙ্গ জাতীয় পরিসংখ্যান নেই এবং তদন্ত ও সুরক্ষার মান ভিন্ন। তাৎক্ষণিক বিপদে পড়লে নিরাপদ স্থানে চলে যান, সম্ভব হলে 199 নম্বরে পুলিশে যোগাযোগ করুন এবং মুখোমুখি সংঘাত এড়ান। মিয়ানমার জাতীয় পোর্টালের মাধ্যমে আঞ্চলিক মিয়ানমার পুলিশ বাহিনীর (MPF) যোগাযোগও খোঁজা যায়। সাধারণ অপরাধের সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দেশব্যাপী ভুক্তভোগী সহায়তা সেবা যাচাই করা যায়নি। নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য বিশেষায়িত যোগাযোগ আছে। মানব পাচার প্রতিরোধ বিভাগ (ATPD)-এর নে পি তাউয়ের নম্বর 067-3411317। কর্তৃপক্ষ নে পি তাউ, ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও মিউজে ২৪ ঘণ্টার মানব পাচার হটলাইনের তথ্য দেয়। অপরাধ বিভাগ 067-3412567, আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ বিভাগ 067-3411477 এবং মাদকদ্রব্য দমন বিভাগ 067-3401139 নম্বরে তালিকাভুক্ত। অঞ্চলভেদে প্রবেশাধিকার ও সাড়া দেওয়ার সময় বদলায় বলে এখতিয়ার ও ঘটনার শ্রেণিবিভাগ নিশ্চিত করা উচিত। প্রতিবেদন করার জন্য দেশজুড়ে কোনো যাচাইকৃত ফি নেই; তবে আইনি সহায়তা, অনুবাদ, পরিবহন ও টেলিযোগাযোগের খরচ একভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। মিয়ানমার সাইবার জরুরি সাড়া দল, mmCERT নামে পরিচিত, প্রযুক্তিগত ঘটনা মোকাবিলা, সতর্কতা ও ঘটনার প্রতিবেদন দেয়। তালিকাভুক্ত যোগাযোগ হলো +95 67 3422272 এবং incident@mmcert.org.mm। জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেইল বা মানব পাচারের ফৌজদারি অভিযোগের বিকল্প mmCERT নয়। নিরাপদে করা গেলে স্ক্রিনশট, বার্তা, লেনদেনের তথ্য ও প্রাসঙ্গিক যন্ত্রের লগ সংরক্ষণ করুন; এরপর অজানা লিংক বা ফাইল খুলবেন না। সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন এবং ফোন, অ্যাকাউন্ট ও পরিচয়পত্র সুরক্ষিত করুন। মানব পাচার আইন নারী, শিশু ও তরুণদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ সুরক্ষা দেয়। উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যক্তিগতভাবে হতে পারে; পাচারের শিকার হওয়ার কারণে ভুক্তভোগীকে ওই আইনে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। অন্য কোনো অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হয়। আইনে ১৬ বছরের কম বয়সীকে শিশু এবং ১৬ বা ১৭ বছর বয়সীকে তরুণ হিসেবে ধরা হয়। জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ ও অনলাইন নিয়োগে তরুণদের বিশেষ ঝুঁকি আছে; তবে দেশজুড়ে যাচাইকৃত তরুণদের জরুরি নম্বর পাওয়া যায়নি। সরকারি মানব পাচার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবর্তন, নিজ দেশে পাঠানো, পুনঃএকত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও আশ্রয় সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। মিয়াওয়াডি, মিউজ, কাওথাউং, মান্দালয় ও ইয়াঙ্গুনে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রের কথা আছে; তবে প্রবেশাধিকার স্থান, সীমান্তের অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। বিদেশি ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি দূতাবাস, জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো বা পুলিশ যোগাযোগ কর্মকর্তাকে যুক্ত করা যেতে পারে। শান ও কաչিন অঞ্চলে, ինչպես আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্কে, মাদক উৎপাদন ও পাচারের গুরুত্ব বেশি। UNODC-এর ২০২৫ সালের মূল্যায়নে মিয়ানমারে ৫৩,১০০ হেক্টর আফিম চাষ নথিভুক্ত হয়েছে এবং আফিমজাত মাদকের অর্থনীতি US$641 মিলিয়ন থেকে US$1.051 বিলিয়ন অনুমান করা হয়েছে। মূল্যায়নে চাষের ৪৪% দক্ষিণ শান, ২১% উত্তর শান এবং ২৩% পূর্ব শানের অংশে বলে উল্লেখ করা হয়। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল থেকে মেথামফেটামিন ও অন্যান্য কৃত্রিম মাদক আন্তঃদেশীয় পাচার, অর্থপাচার, প্রতারণা অবকাঠামো ও সংগঠিত অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত। রাজনৈতিক বা সংঘাতজনিত সহিংসতা, অবিস্ফোরিত অস্ত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সাধারণ ভোক্তা-বিরোধের জন্য আলাদা নিরাপত্তা বা আইনি পথ দরকার; এগুলোকে সাধারণ অপরাধের এক শ্রেণি হিসেবে দেখা উচিত নয়।
মিয়ানমারে অপরাধ
মিয়ানমারে অপরাধ বলতে প্রকৃত বা হুমকিস্বরূপ অপরাধমূলক আচরণ বোঝায়; এর মধ্যে চুরি, প্রতারণা, মানব পাচার, ডিজিটাল জালিয়াতি, মাদক পাচার ও সহিংসতা রয়েছে। বড় শহর, সীমান্ত অঞ্চল এবং রাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকায় অপরাধের ধরন, পুলিশে প্রবেশাধিকার ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা অনেক ভিন্ন। সন্দেহভাজন অপরাধীর মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে নিরাপদে সরে যাওয়া, সতর্কভাবে প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সঠিক অভিযোগমাধ্যম বেছে নেওয়া বেশি জরুরি হতে পারে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

