একটি ফৌজদারি মামলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) দিয়ে শুরু হতে পারে; সরাসরি বা অনলাইনে GD করা যায়। বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, GD সেবা বিনা মূল্যে এবং নির্দেশিত সময় 1 থেকে 7 দিন। আমলযোগ্য অপরাধে CrPC-এর 154 ধারা অনুযায়ী পুলিশকে তথ্য লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ, অভিযোগকারীকে পড়ে শোনানো, তার স্বাক্ষর নেওয়া ও সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। অ-আমলযোগ্য অপরাধে পুলিশ একটি নথিভুক্তি করে অভিযোগকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠায়; এরপর পুলিশি তদন্তে সাধারণত ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ লাগে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সরাসরি অভিযোগ করাও আরেকটি পথ। গ্রেপ্তারের সময় কর্মকর্তাকে নিজের পরিচয় জানাতে, কারণ বলতে এবং গ্রেপ্তার স্মারকে স্থান ও সময় নথিভুক্ত করতে হয়। ব্যক্তির বাসস্থানের বাইরে গ্রেপ্তার হলে আইননির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মীয় বা বন্ধুকে জানাতে হয় এবং সম্ভব হলে 12 ঘণ্টার মধ্যে আইনজীবী বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দিতে হয়। প্রয়োজন হলে গ্রেপ্তার ব্যক্তির আঘাত পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, পরীক্ষার সনদ এবং জব্দতালিকার কপি পাওয়া উচিত। বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ ছাড়া, নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যাওয়ার যাত্রাসময় বাদে, হাজির করার আগের আটক 24 ঘণ্টায় সীমিত। CrPC-এর 167 ধারায় পুলিশি হেফাজত একটি মামলায় মোট 15 দিনে সীমিত; পরবর্তী হেফাজত বিচার বিভাগীয়। নির্যাতন বা আঘাতের অভিযোগ থাকলে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা হতে পারে। 167A ধারায় দেখানো গ্রেপ্তারে আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা, শুনানি এবং আদালতের জন্য মামলার ডায়েরির কপি দরকার। জামিন মানে মুচলেকা, জামানত বা আদালতের শর্ত সাপেক্ষে মামলা চলাকালীন মুক্তি। জামিনযোগ্য অপরাধে আইনগত শর্ত পূরণ হলে সাধারণত জামিনে মুক্তি দিতে হয়; অ-জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন বিচারিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। 497 ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনযোগ্য অপরাধের যুক্তিসংগত ভিত্তি থাকলে জামিন সীমিত, তবে নারী, 16 বছরের কম বয়সী এবং অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তির জন্য বিধিবদ্ধ সুরক্ষা আছে; বিশেষ আইনও প্রযোজ্য হতে পারে। জামিনে মামলা শেষ হয় না; অভিযুক্তকে আদালতের তারিখ ও শর্ত মানতে হয়। তদন্ত চলাকালে পুলিশ মামলার ডায়েরি রাখে এবং যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে অভিযোগপত্র বা অন্য পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে পারে। প্রমাণ অপর্যাপ্ত হলে 169 ধারা মুচলেকায় মুক্তির সুযোগ দেয়; 173A ধারার অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন অব্যাহতির পক্ষে যেতে পারে, যদিও পরে আবার অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। তদন্ত শেষ করার জন্য 173B ধারা 60 কার্যদিবসের লক্ষ্য নির্ধারণ করে; বিলম্বের কারণ দেখানো ও ম্যাজিস্ট্রেটের সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। 173(5) ধারার পৃথক 120 দিনের জামিন কাঠামোও আটককে প্রভাবিত করতে পারে। এ বিধানগুলো নির্দিষ্ট মামলার ফল বা শেষ হওয়ার তারিখ নিশ্চিত করে না। আদালত অভিযোগ গঠন, অব্যাহতির আদেশ, প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য ও জেরা শুনানি এবং খালাস বা দণ্ড দিতে পারে। দায়রা মামলায় সরকারি কৌঁসুলি প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন। সাক্ষ্য আইন প্রাসঙ্গিকতা ও প্রমাণের দায় নির্ধারণ করে; ডিজিটাল স্বাক্ষরের নিয়মসহ 65A ও 65B ধারায় ডিজিটাল নথি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। আপিল ও রিভিশনের সুযোগ থাকে; সমঝোতা কেবল সংশ্লিষ্ট অপরাধ ও আইন অনুমোদন করলে সম্ভব। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা, বাজেয়াপ্ত বা অধিগ্রহণ এবং জরিমানা থেকে ক্ষতিপূরণ রয়েছে। 1960 সালের অপরাধীদের প্রবেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী আদালত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সাপেক্ষে প্রবেশন বা শর্তাধীন অব্যাহতি দিতে পারে; তদারকি সাধারণত 1 থেকে 3 বছর চলে। সড়ক অপরাধে লাইসেন্স স্থগিত, বাতিল বা অযোগ্য ঘোষণাও হতে পারে; কারা হেফাজত 1894 সালের কারাগার আইনে নিয়ন্ত্রিত। আদালত তথ্যদাতা, অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা বা নিরাপত্তার আদেশ দিতে পারে এবং যুক্তিসংগত হাজিরা খরচ দিতে পারে। জরিমানা থেকে প্রসিকিউশনের খরচ বা ক্ষতিপূরণও দেওয়া যেতে পারে; বিশেষ আইনে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা থাকতে পারে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলায় পুলিশ, চিকিৎসা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পথ ব্যবহার করা যায়। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, 2026 অনুযায়ী ভুক্তভোগী মামলার অবস্থা, ক্ষতিপূরণ ও আইনি সহায়তার তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আশ্রয় বা পুনর্বাসন পেতে পারেন। শিশু আইন, 2013 অনুযায়ী 18 বছরের কম বয়সী ব্যক্তি শিশু; সাধারণত অপরাধের তারিখে বয়স বিচার করা হয়। শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা ও শিশু আদালত গোপনীয়তা, প্রতিনিধিত্ব, বিকল্প নিষ্পত্তি ও আটকসংক্রান্ত শিশুবান্ধব বিধি প্রয়োগ করে; সামাজিক, মানসিক ও শিক্ষাগত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আদালত হিসেবে কাজ করতে পারে। নিরাপদ আবাস ও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ব্যবহার করা যায় এবং হাইকোর্ট বিভাগে আপিলের সর্বোচ্চ সময় 60 দিন। দণ্ডবিধিতে 9 বছরের কম শিশুর এবং যথেষ্ট পরিপক্বতা না থাকা 9 থেকে 12 বছরের কম কিছু শিশুর ফৌজদারি দায় আলাদাভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ফৌজদারি আইনে সন্ত্রাসবাদ, অর্থপাচার, মাদকদ্রব্য, নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা, অ্যাসিড অপরাধ, পর্নোগ্রাফি, মানব পাচার, সড়ক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধের মতো বিষয় রয়েছে। 2018 সালের সড়ক পরিবহন আইন, 2019 থেকে কার্যকর, লাইসেন্স, নিবন্ধন, যানবাহনের ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিপজ্জনক, লাইসেন্সবিহীন, মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক লঙ্ঘনকে অপরাধ করে। সড়ক দুর্ঘটনার পর আইন তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া ও চিকিৎসার পদক্ষেপ চায়; ভুক্তভোগী বা উত্তরাধিকারীরা দুর্ঘটনা তহবিল থেকে বিধিবদ্ধ আর্থিক সহায়তা বা চিকিৎসার খরচ চাইতে পারেন। বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা আইন, 2026, 10 এপ্রিল 2026-এ প্রণীত এবং 1 জুলাই 2026-এ সংশোধিত, 2025 সালের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশকে প্রতিস্থাপন করেছে; নির্দিষ্ট অপরাধ, শাস্তি ও জামিনের অবস্থার ক্ষেত্রে বর্তমান বাংলা আইন ও সংশোধনীই নিয়ামক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, 2018 বা সাইবার নিরাপত্তা আইন, 2023-এর উল্লেখ অন্তর্বর্তী বিধি প্রযোজ্য না হলে পুরোনো হতে পারে। 999 নম্বরে জরুরি পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (NLASO) যোগ্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ও অভিযোগকারীদের আবেদন, জেলা ও সুপ্রিম কোর্টের কাঠামো এবং জাতীয় হেল্পলাইন 16699-এর মাধ্যমে ফৌজদারি আইনি সহায়তা দেয়। জেলা বা মহানগরভেদে আইনজীবী, চিকিৎসা, আশ্রয়, প্রবেশন ও ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা আলাদা; বেসরকারি আইনজীবীর খরচ হতে পারে। সারা বাংলাদেশের জন্য একক খরচ বা মামলা শেষ হওয়ার সময়ের হিসাব নেই। পুলিশি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ইউনিট, পুলিশ সুপার বা মহানগর কাঠামোতে বাড়ানো যায়; প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠান ও এলাকার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন
বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন অপরাধ, ফৌজদারি দায় এবং সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণ করে। এটি পুলিশি তদন্ত, ফৌজদারি আদালত, বিচার এবং অভিযুক্ত, দণ্ডিত ব্যক্তি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের অধিকারও নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধান সাধারণ আইন হলো দণ্ডবিধি, 1860, ফৌজদারি কার্যবিধি, 1898 (CrPC) এবং সাক্ষ্য আইন, 1872; বিশেষ আইন অপরাধ, গ্রেপ্তার, জামিন, বিচারিক আদালত বা বাজেয়াপ্তের নিয়ম বদলাতে পারে। মামলাভেদে বাংলাদেশ পুলিশ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, দায়রা আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কাজ করতে পারে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

