প্রাসঙ্গিক বিধানগুলোর মধ্যে আছে বিদেশি আইন ১৯৪৬, বিদেশি নিবন্ধন আইন ১৯৩৯ ও এর ১৯৬৬ সালের বিধিমালা এবং পাসপোর্ট আইন ১৯২০। সাধারণভাবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেই এমন ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশে প্রত্যেক ব্যক্তির আইনগত সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র প্রবেশ, প্রস্থান, অবস্থান, চলাচল, প্রতিবেদন, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নির্দিষ্ট কার্যক্রম সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) ভিসা, NVR, সীমান্তে দেওয়া ভিসা (Visa on Arrival), ট্রানজিট পারমিট, প্রস্থান পারমিট এবং অবস্থানের শ্রেণি পরিবর্তনের কিছু আবেদন পরিচালনা করে। NVR অর্থ ভিসামুক্ত প্রবেশের মর্যাদা (No Visa Required); যোগ্য ব্যক্তিদের প্রবেশ ও অবস্থানে সহায়তা করে। দেশের বাইরে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন ভিসা দেয়। সীমান্তের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ প্রবেশ ও প্রস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিবাসন ও ভিসানীতি নির্ধারণ করে; পুলিশের নিরাপত্তা শাখা (Special Branch) নিবন্ধন ও নিরাপত্তা যাচাই করতে পারে। বাংলাদেশ এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র, তবে কার্যকর প্রক্রিয়া বন্দর, বিমানবন্দর, কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিগত ঘটনার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। ভিসা কেবল তার শ্রেণিতে অনুমোদিত অবস্থান ও কার্যক্রমের অনুমতি দেয়। পর্যটক ভিসায় সাধারণত সর্বোচ্চ তিন মাস থাকা যায় এবং চাকরি করা নিষিদ্ধ। ব্যবসায়িক ভিসা সর্বোচ্চ এক বছর বৈধ হতে পারে, সাধারণত প্রতি প্রবেশে ৯০ দিনের বেশি থাকা যায় না এবং এ ভিসাও চাকরির অনুমতি দেয় না। শিক্ষার্থী ভিসার জন্য রাষ্ট্রস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও অর্থের প্রমাণ লাগে; এর মেয়াদ পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত বা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বাড়ানো যেতে পারে। বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশি স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসা প্রযোজ্য হতে পারে। চিকিৎসা, ধর্মীয়, সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত ভিসার আলাদা শর্ত আছে। কাজের জন্য বিদেশি কর্মীর সাধারণত উপযুক্ত ভিসার পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট লাগে। খাতভেদে BIDA, BEZA, BEPZA, BHTPA, PPA বা NGO Affairs Bureau অনুমোদন দেয় বা পর্যালোচনা করে। প্রথম প্রবেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সাধারণত ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে হয়। নিয়োগকর্তা বদলালে বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, বাংলাদেশ ত্যাগ এবং সঠিক ভিসা ও নতুন পারমিট নিয়ে পুনরায় প্রবেশ করতে হয়। পর্যটক, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী বা পারিবারিক ভিসায় চাকরি করলে অভিবাসন মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আগমনী ভিসা কেবল নির্দিষ্ট সীমান্তপথে দেওয়া হয় এবং সাধারণত একবার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ দিনের। আমন্ত্রণপত্র বা অন্য প্রমাণ, হোটেলের তথ্য, ফেরার ফ্লাইট এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। যোগ্যতা জাতীয়তা, প্রবেশের উদ্দেশ্য, বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রাপ্যতা এবং সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। ট্রানজিটের সরকারি সময়সীমায় মতভেদ আছে: কোথাও ৭২, কোথাও ৯৬ ঘণ্টা বলা হয়েছে; ভ্রমণের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সীমান্ত কর্তৃপক্ষ বা কূটনৈতিক মিশনের কাছে নিশ্চিত করুন। প্রবেশের পর ভিসার শ্রেণি বদলানো সাধারণত অনুমোদিত নয়, তবে কিছু আগমনী ভিসার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে অনুমতি আছে। সাধারণত অনলাইন ভিসা আবেদন ব্যবস্থা (MRV)-এ আবেদন তৈরি করে প্রিন্ট করতে হয় এবং পাসপোর্ট, সহায়ক নথি ও ফি-সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসা অফিস বা কূটনৈতিক মিশনে জমা দিতে হয়। পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণত অন্তত ছয় মাস থাকতে হয়। ফি জাতীয়তা, পারস্পরিকতা এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ওপর নির্ভর করে; আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়া যায় না। মিথ্যা নথি বা বক্তব্যের কারণে প্রত্যাখ্যান, বহু বছরের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বা ফৌজদারি পরিণতি হতে পারে। নিবন্ধনের দায়িত্ব ভিসা, জাতীয়তা ও অবস্থানের মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। ভিসানীতি ২০২৬ বলছে, অন্তত ৯০ দিন বৈধ ভিসাধারী ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। তবে Special Branch-এর পৃথক একটি পৃষ্ঠায় ৯০ দিনের বেশি বৈধ ভিসাধারী বহু বিদেশির জন্য সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া এবং কিছু শ্রেণির ব্যতিক্রম উল্লেখ আছে। এই বিরোধের কারণে প্রবেশের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে বর্তমান সময়সীমা জিজ্ঞাসা করুন। নিবন্ধন প্রযোজ্য হলে ঠিকানা, বাসস্থান পরিবর্তন, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও ফর্ম জমা দিতে হতে পারে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করুন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে প্রথম ১৫ দিনের জন্য প্রতিদিন ১,০০০ BDT, ৯০তম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ২,০০০ BDT এবং এরপর প্রতিদিন ৩,০০০ BDT সাধারণ চার্জ; বিদেশি আইনে কার্যক্রমও শুরু হতে পারে। দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফ্লাইট বাতিলের মতো অনিবার্য ঘটনায় ব্যতিক্রম হতে পারে। চিকিৎসাগত বা বিশ্বাসযোগ্য মানবিক কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফি মওকুফ বা কমাতে পারে। ব্যাংকে অর্থ দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে প্রস্থান অনুমোদিত হতে পারে এবং অতিরিক্ত অবস্থানের তথ্য পাসপোর্টে লেখা হতে পারে। NVR যোগ্য বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিক, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি এবং বাংলাদেশি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের প্রবেশ ও অবস্থানে সহায়তা করে। NVR বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নয় এবং স্বয়ংক্রিয় স্থায়ী বসতির অধিকারও নয়। বর্তমান ফি ৮০ মার্কিন ডলার বলা হয়েছে; বিনিয়োগকারীদের যোগ্য বিনিয়োগ ১০০,০০০ মার্কিন ডলার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সনদসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশে স্থায়ী বসতির জন্য সাধারণ ভিসা নেই এবং কেন্দ্রীয় আশ্রয় কর্তৃপক্ষসহ সাধারণ বিধিবদ্ধ আশ্রয়-প্রক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক শরণার্থী-স্বীকৃতি ব্যবস্থা নেই। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী (Forcibly Displaced Myanmar Nationals (FDMN)) হিসেবে মর্যাদা প্রধানত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং UNHCR-এর সহযোগিতায় প্রশাসনিকভাবে পরিচালিত হয়; বিশেষত কক্সবাজার ও ভাসানচরে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অন্য আশ্রয়প্রার্থীরা সাধারণত আশ্রয়-প্রক্রিয়ায় সাধারণ সরকারি নিবন্ধন বা বসবাসের অনুমতি পান না। তবু আন্তর্জাতিক আইনের প্রত্যর্পণ না করার নীতি প্রাসঙ্গিক হতে পারে; দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োগ ও নির্দিষ্ট আইনি প্রতিকার ব্যক্তিগত ঘটনার ওপর নির্ভর করে। নির্ধারিত শর্তে সরকার নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ ১৯৭২-এর ৪A অনুচ্ছেদে স্থায়ী বসতির অধিকার দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট সনদের জন্য কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে আবেদন, পাসপোর্ট, ছবি, হলফনামা, পরীক্ষা এবং বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে BIDA-এর প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন নথি চায়। ন্যূনতম বিনিয়োগ, ফি ও প্রক্রিয়াকরণের সময় নিয়ে সরকারি তথ্য পরস্পরবিরোধী: একটি বর্তমান তালিকায় ৭৫,০০০ মার্কিন ডলার, ১৫,০০০ BDT এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মদিবস; অন্য পৃষ্ঠায় ৭,০০০ BDT ও ৯০ কর্মদিবস বলা হয়েছে। তাই স্থায়ী মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলে না। বংশসূত্র, স্বাভাবিকীকরণ, বিয়ে, বিশেষ বিনিয়োগ বা বিশেষ অবদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যেতে পারে। পথভেদে আইনি শর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদের বসবাস, সচ্চরিত্র, বাংলার যথেষ্ট জ্ঞান, প্রজাতন্ত্রে বসবাস বা সেবার ইচ্ছা এবং সরকারি পর্যালোচনা ও বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকীকরণের জন্য টানা ১২ মাসের বসবাস এবং আগের সাত বছরে মোট চার বছরের বসবাসের কথা বলা হয়েছে। বিয়ে ও বিনিয়োগের প্রক্রিয়া, ফি ও সময় নিয়ে সরকারি সেবাগুলোর তথ্য ভিন্ন; আবেদন করার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিশ্চিত করুন। DIP-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ভিসার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে; পর্যালোচিত উৎসে প্রতিটি ভিসা প্রত্যাখ্যানের জন্য পৃথক বিধিবদ্ধ আপিল-পদ্ধতি পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক মিশন, DIP, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারি অভিযোগ চ্যানেল GRS-এর মাধ্যমে প্রশ্ন ও অভিযোগ জানানো যায়। গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি অনুযায়ী অবিলম্বে হাজির করা বা পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হস্তান্তরের বিশেষ দায়িত্ব প্রযোজ্য। ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও বহিষ্কারের ব্যাপক ক্ষমতা থাকায় প্রত্যাখ্যান, গ্রেপ্তার, বহিষ্কারের হুমকি বা অনিশ্চিত অভিবাসন অবস্থার মুখে দ্রুত বাংলাদেশে পেশাগত আইনি পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশে অভিবাসন আইন
বাংলাদেশে অভিবাসন আইন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ, অবস্থান, কাজ, পড়াশোনা, পারিবারিক বসবাস, সুরক্ষার বিষয়, স্থায়ী বসতি ও নাগরিকত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। ভিসা, আগমনী ভিসা এবং বিশেষ অনুমতি একজন কত দিন থাকতে পারবেন ও কী কাজ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে। প্রক্রিয়াভেদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে আছে অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (Department of Immigration and Passports), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কূটনৈতিক মিশন, সীমান্তের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের বিশেষ শাখা।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

