সংবিধান সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রক্ষমতা নেপালি জনগণের হাতে ন্যস্ত করেছে এবং মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ ফেডারেল নির্বাহী পরিচালনা করেন। ফেডারেল পার্লামেন্টে প্রতিনিধি সভা ও স্থায়ী জাতীয় সভা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ আদালত; এর অধীনে হাইকোর্ট ও জেলা আদালত রয়েছে। প্রদেশ ও স্থানীয় স্তরের নিজস্ব সভা ও নির্বাহী বিভাগ আছে। নেপালে তিন স্তরের সরকার রয়েছে: ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয়। প্রশাসনিক একক হিসেবে দেশে ৭৭টি জেলা এবং ৭৭টি জেলা সমন্বয় কমিটি রয়েছে। স্থানীয় সরকারে ছয়টি মহানগর, ১১টি উপমহানগর, ২৭৬টি পৌরসভা ও ৪৬০টি গ্রামীণ পৌরসভা রয়েছে। ফেডারেল বিষয়ক ও সাধারণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা, সেবা সহজীকরণ ও আন্তঃসরকারি সমন্বয়ে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের কার্যালয় মন্ত্রিসভার কাজ, সরকারি দায়িত্ব, ফেডারেল সম্পর্ক, জাতীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল শাসন সমন্বয় করে। সংবিধানের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর তফসিল একক ও যৌথ ক্ষমতা নির্ধারণ করে। তাই ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকার সব কাজ একই কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করে না। ফেডারেল আইন, খাতভিত্তিক আইন ও আন্তঃসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্বের ওভারল্যাপ মেটানো হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, প্রদেশ বা স্থানীয় স্তরের মাধ্যমে সরকারি সেবা নিতে হয়; তা নির্ভর করে সেবা, নথি, ফি ও আইননির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর। সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষা ও সুপারিশের মাধ্যমে প্রধানত সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ হয়; প্রাদেশিক ও স্থানীয় কর্মী নিয়োগ ফেডারেল বা প্রাদেশিক আইনের ওপরও নির্ভর করে। প্রতিটি সরকারি স্তরের সমন্বিত তহবিল রয়েছে; অর্থ আসে নিজস্ব রাজস্ব, ভাগ করা রাজস্ব, প্রাকৃতিক সম্পদের রয়্যালটি ও হস্তান্তর থেকে। হস্তান্তরের মধ্যে রয়েছে রাজস্ব ভাগ, রয়্যালটি ভাগ, রাজস্ব সমীকরণ, শর্তাধীন, পরিপূরক ও বিশেষ অনুদান। জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাজস্ব কমিশন রাজস্ব ভাগের ব্যবস্থা, সমীকরণ ও শর্তাধীন অনুদানের ভিত্তি, ঋণসীমা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের আয় বণ্টনের সুপারিশ করে। ২০২৬/২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতা ও আন্তঃসরকারি হস্তান্তর কাঠামো বর্তমান আর্থিক পরামিতি দেয়; তবে নির্দিষ্ট অঙ্ক অর্থবছর, প্রদেশ ও স্থানীয় স্তরভেদে বদলায়। সরকারি সংস্থাগুলো বাজেট, ক্রয়, হিসাব, নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন-সংক্রান্ত নিয়মও অনুসরণ করে। তদারকির দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করা। দুর্নীতি দমন ও কর্তৃত্বের অপব্যবহার তদন্ত কমিশন সরকারি পদধারীদের দুর্নীতি ও কর্তৃত্বের অপব্যবহার তদন্ত করে এবং মামলা করতে পারে। মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয় ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয় কার্যালয়, সাংবিধানিক সংস্থা, আদালত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সংস্থার নিরীক্ষা করে। সরকারি হিসাব কমিটিসহ পার্লামেন্টারি কমিটিগুলো রাজনৈতিক তদারকি করে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগ তদন্ত করে ও সুপারিশ দেয়; জাতীয় তথ্য কমিশন সরকারি তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার তদারক করে। সংবিধানে অ্যাটর্নি জেনারেল, সাংবিধানিক পরিষদ ও অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থাও রয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ এবং ২০০৭ সালের তথ্য অধিকার আইন নেপালি নাগরিকদের সরকারি সংস্থার কাছে নিজের বা জনস্বার্থের তথ্য চাওয়ার অধিকার দেয়। সাধারণত তথ্য কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হয়। সম্ভব হলে সংস্থা অবিলম্বে তথ্য দেবে, অন্যথায় ১৫ দিনের মধ্যে; জীবন বা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট তথ্যের ক্ষেত্রে সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা। আবেদনকারীকে নির্ধারিত প্রকৃত খরচ দিতে হয়। সাত দিনের মধ্যে সংস্থার প্রধানের কাছে অভিযোগ এবং এরপর ৩৫ দিনের মধ্যে জাতীয় তথ্য কমিশনে আপিল করা যায়। সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, অপরাধ তদন্ত, বাণিজ্যিক গোপনীয়তা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে অব্যাহতি রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বও ভাগ করা। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের কার্যালয় জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয় করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নেপাল সেনাবাহিনী বহিরাগত প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও দুর্যোগ সহায়তার কাজ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ প্রতিরোধ বা তদন্ত করে। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নেপাল সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, সীমান্ত নিরাপত্তা, দুর্যোগ এবং সুরক্ষিত স্থান বা ব্যক্তির নিরাপত্তায় সহায়তা করে। জাতীয় তদন্ত বিভাগ গোয়েন্দা তথ্য দেয়। বেসামরিক মানুষের যোগাযোগের জন্য সাধারণ কোনো নির্দেশ-চ্যানেল নেই; জরুরি বা নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সরকারি কর্তৃপক্ষের আইন মেনে চলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নিরীক্ষায় সহযোগিতা ও অধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে। সব সেবার জন্য রাষ্ট্রজুড়ে একক ফি বা সময়সীমা নেই: দায়িত্বপ্রাপ্ত স্তর, সেবার নিয়ম, দরকারি নথি ও আইননির্ধারিত সময়সূচি প্রক্রিয়া ঠিক করে। নির্বাচন, দেওয়ানি বিরোধ ও ঐতিহাসিক বিকাশ মূলত আলাদা বিষয়; তবে রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সংযোগ থাকতে পারে।
নেপালের রাষ্ট্রব্যবস্থা
নেপাল একটি সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমাজতন্ত্রমুখী ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র; সংশোধিত ২০১৫ সালের নেপালের সংবিধান অনুযায়ী এটি পরিচালিত। রাষ্ট্রক্ষমতা ফেডারেল সরকার, সাতটি প্রাদেশিক সরকার ও ৭৫৩টি স্থানীয় স্তরের মধ্যে বিভক্ত। এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান, জনপ্রশাসন, আদালত, সরকারি অর্থব্যবস্থা, তদারকি সংস্থা ও নিরাপত্তা সংস্থা রয়েছে।
VivAVia can make mistakes. Check important information.

